আগামী ১০ বছরের মধ্যে দাম ব্যারেলপ্রতি ৪০ ডলারে নামবে

1

পত্রিকা ডেস্ক
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাতে বেশ জোরালোভাবে কাজ করছেন বিশ্বনেতারা। এজন্য কার্বন নির্গমন কমিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘও, যার অংশ হিসেবে দেশে দেশে জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস করছে সরকারগুলো। আর এ চেষ্টা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব পড়বে জ্বালানি তেলের বাজারে। এডিনবার্গভিত্তিক বাজারবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির (উডম্যাক) পূর্বাভাস বলছে, জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার ফলে আগামী দশ বছরের মধ্যে (২০৩০ সাল নাগাদ) জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪০ ডলারে নেমে আসবে। খবর রয়টার্স।

উডম্যাক বলছে, বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমন কমাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সরকারপ্রধানরা। এজন্য শিল্প ও পরিবহন খাতে জ্বালানির পরিবর্তে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর প্রতি ঝুঁকছেন তারা। প্যারিস চুক্তির আওতায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমিয়ে আনতে তারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন।

উড ম্যাকেঞ্জির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের ব্যবহার হ্রাসের এ হার ২০৫০ সাল নাগাদ আরো কমে আসবে। এ সময়ে দৈনিক জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহারে পরিমাণ কমে আসবে ২০ লাখ ব্যারেলে। অন্যদিকে দৈনিক চাহিদা কমে ৩ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলে নামতে পারে। তবে আশার কথা হলো, জ্বালানি তেলের ব্যবহার হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে এ সময় কার্বন নির্গমনের পরিমাণও অনেকটা কমে আসবে। বর্তমানের তুলনায় ২০৫০ সালের মধ্যে জ্বালানি তেল থেকে কার্বন নির্গমন ৬০ শতাংশ কমে আসবে।

এসবের ফলে চলতি দশকের শেষে তেলের দাম আরো অনেক কমে যাবে বলে মনে করছেন উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষকরা। সংস্থাটির ‘অ্যাকসেলারেটেড এনার্জি ট্রানজিশন’ শীর্ষক প্রতিবেদন বলছে, এমন পরিস্থিতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম কমে গড়ে ব্যারেলপ্রতি ৪০ ডলারে দাঁড়াবে। বর্তমানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ২০৫০ সাল নাগাদ ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্টের দাম ১০ থেকে ১৮ ডলার কমতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

এর আগে ২০১৯ সালে দৈনিক ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল ব্যবহারের রেকর্ডে পৌঁছে বিশ্ব। গত বছর (২০২০ সালে) করোনা মহামারীর কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদায় অনেকটাই ঘাটতি দেখা দেয়। তবে চলতি বছরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে আরো সক্রিয়ভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সম্প্রতি বিশ্ব জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) এক পূর্বাভাসে বলা হয়, ২০২৩ সালের আগে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা মহামারীপূর্ব অবস্থায় পৌঁছবে না।

উডম্যাকের পরামর্শক অ্যান-লুইস হিটল বলেন, প্যারিস চুক্তির আওতায় আমরা যদি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি তাহলে অবশ্যই জ্বালানির চাহিদা অনেকটা কমে আসবে। তখন বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দামেও একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

লুইস বলেন, বিশ্বের বর্তমান নীতি প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন থেকে খুব একটা দূরে নেই। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বর্তমানে শিল্প-পূর্ব অবস্থা থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওপরে রয়েছে। তবে আগামী ২১০০ সালের মধ্যেই সেটা আরো কমে আসবে বলে মনে করছেন তিনি।

উড ম্যাকেঞ্জি বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে চাহিদা কমিয়ে আনা হচ্ছে। ফলে জ্বালানি পণ্যটির বিদ্যমান উৎস থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহের পরিমাণও যথেষ্ট হবে। এর মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সব ধরনের ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণ হবে। পাশাপাশি জ্বালানি পণ্যটির সরবরাহ বাড়াতে নতুন করে তেলকূপের প্রয়োজনও কমে আসবে।