ইয়াসের তান্ডবে বেড়িবাধের ১৫টি স্থানে ভাঙন

2

ভয়াল ঘূর্নিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর ও আশশুনি উপজেলার অর্ধ শতাধিক গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এসমস্ত এলাকার নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৬/৭ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। এর ফলে বাধ ভেঙে ও বাধ উপচে পড়ে উপকূলীয় এলাকার বিপুল সংখ্যক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে কয়েকশত বিঘার চিংড়ি ঘের। নোনা পানির এ অঞ্চলের মানুষ পুকুরের মিষ্টি পানির ওপর নির্ভরশীল। সেসব পুকুরও নোনা পানিতে ডুবে গেছে। পানির তোড়ে শ্যামনগর উপজেলার বেশকিছু সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে না উঠলেও নিরাপদ স্থানে সরে গেছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র গুলি একরকম খালি পড়ে আছে।
বুধবার সকালে শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ঝাপা গ্রামে বেড়িবাঁধের চারটি পয়েন্ট, পাতাখালির দুটি পয়েন্ট, রমজাননগরের দুটি পয়েন্ট, গাবুরার তিনটি পয়েন্ট, কৈখালির দুটি পয়েন্ট, বুড়িগোয়ালিনীর তিনটি পয়েন্ট ও নূরনগর ইউনিয়নের একটি পয়েন্টসহ অন্ততঃ ১৫টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি গ্রামে ঢুকে পড়েছে। পানি উপচে পড়েছে কমপক্ষে ৩৪টি স্থানে।
এদিকে কালিগঞ্জ উপজেলার হাড়দ্দাহ গ্রামে কালিন্দী নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে ১০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। আশাশুনির দয়ারঘাট, কুড়িকাহনিয়া লঞ্চঘাট, হরিশখালী, সুভদ্্রাকাটি এলাকা ভেঙে নোনা পানিতে আটকে পড়েছে গ্রামবাসী। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরার জেলেখালি, নেবুবুনিয়াম চাঁদনীমুখা, দূর্গাবটিসহ বিভিন্ন এলাকা এখন পানিতে ভাসছে। গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা বালির বস্তা এবং মাটি ফেলে বাধ সংস্কারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, ৩০ ভাগ চিংড়ী ঘের পানির তলে তলিয়ে গেছে। এতে বিপুল টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জার গিফারী জানান, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা যায়নি। তবে ক্ষতির অংক হবে অনেক বড়।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট ধ্বসে নদীর পানি ছড়িয়ে পড়েছে। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সেতু উপচে চুনা নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে এলাকা। এখন পর্যন্ত কোন প্রানহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে গ্রামবাসী গবাদিপশু ও তাদের সহায় সম্পদ নিয়ে আতংকিত হয়ে পড়েছেন। সাতক্ষীরায় দিনভর বৃষ্টি হয়েছে সেইসাথে ঝড়ো হাওয়া ছিল প্রবল।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, ৮টি স্থানে পানি উপচে পড়েছে। লেবুবুনিয়া, হাড়দ্দাহ, দূর্গাবাটি, কুলতলী, কোমরপুর এই পাচটি স্থানে বেড়িবাধ ভেঙে গেছে। সেগুলি সাময়িক মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ আহমেদ জানান, তার বিভাগের অধিনে কমপক্ষে ১২টি স্থানে পানি উপচে পড়েছে। আশাশুনির কুড়িকাউনিয়া, সুভদ্রাকাটি, ঝাপা, হরিসখালীসহ ৬টি পয়েন্টে বাধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়েছে।