এক যুগ পর হাসবে বাংলাদেশ

1

ক্রীড়া ডেস্ক
টেস্ট ক্রিকেট বাংলাদেশ এখনও ভালো দল হয়ে উঠতে পারেনি। দেশে কিছুটা লড়াই করলেও বিদেশের মাটিতে সাফল্য খুব সামান্যই। ভারত, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পাঁচ ম্যাচে বাজে হারের পর ক্যান্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের বৃত্ত ভেঙেছে মুমিনুল হকরা। জয় না পেলেও ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ম্যাচটি ড্র করেছে। বৃহস্পতিবার একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। জিততে পারলেই বিদেশের মাটিতে এক যুগ পর টেস্ট সিরিজ জেতার আনন্দ হবে সঙ্গী।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ২০১৭ সালে, শততম টেস্টে। সেবার ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই সাফল্যকে ছাড়িয়ে যেতে ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মাঠে নামবে সফরকারীরা। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস, গাজী টিভি ও সনি সিক্স।

প্রথম টেস্টে ব্যাটিং স্বর্গে ব্যাটসম্যানদের দাপটে অনেকদিন পর ড্রয়ের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ, পাশাপাশি পেয়েছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম পয়েন্টও। মুমিনুলদের এখন লক্ষ্য পয়েন্ট বাড়িয়ে নেওয়ার। একই ভেন্যুতে খেলা হলেও উইকেট আগের মতো ব্যাটিং বান্ধব থাকছে না। বাংলাদেশের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো এমনই আভাস দিয়েছেন। তাই বলে ব্যাটসম্যানদের সহায়তা থাকবে না, সেটিও না। লঙ্কান উইকেট যেমনটা হয়, তেমনই হচ্ছে ক্যান্ডির দ্বিতীয় টেস্টের উইকেট। শুরুতে ব্যাটসম্যানরা সহায়তা পেলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেটে ভাঙন ধরবে। সেক্ষেত্রে অধিনায়কের বাড়তি একজন স্পিনারের প্রয়োজন পড়বে।

ক্যান্ডির উইকেট যে কিছুটা ঘূর্ণি থাকবে লঙ্কান দলে নতুন এক স্পিনারের অন্তর্ভুক্তি সেটিই ইঙ্গিত দেয়। প্রথম টেস্টে থাকা লাহিরু কুমারার মতো দিলশান মধুশানকাও হ্যামস্ট্রিং চোটে ছিটকে গেছেন। তাদের জায়গায় দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াডে ডাক পাওয়া দুইজনের একজন হলেন স্পিনার লাকশান সান্দাকান।

বাংলাদেশের একাদশ এখনও চূড়ান্ত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে দুই পেসার নিয়ে নামবে বাংলাদেশ। তবে ডমিঙ্গোর ইচ্ছা আগের একাদশ নিয়েই মাঠে নামার। সকালে উইকেট দেখার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে টিম ম্যানেজমেন্ট। দুই পেসার খেলালে এবাদত হোসেন কিংবা আবু জায়েদ রাহীর মধ্যে একজনকে বিশ্রামে দিয়ে অফস্পিনার নাঈম হাসানকে নিয়ে তিনজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজানো হতে পারে। বাড়তি পাওনা হিসেবে নাঈমের ব্যাটিংটাও দলে ভূমিকা রাখবে। তবে তিন পেসার খেলালে হয়তো শরিফুল ইসলামের অভিষেক হয়ে যেতে পারে।

একাদশ নিয়ে ডমিঙ্গো বলেছেন, ‘তারা (আগের টেস্টের) তিনজন আবার খেলার অগ্রাধিকার পাবে। দল নির্বাচনে ধারাবাহিক হতে চাই। টেস্টে খেলোয়াড়দের পারফর্ম করার সুযোগ দিয়ে চাই। পেসাররা মাত্র তিন দিন আগেই এই গরমে বোলিং করেছে। ইনিংসে ৩০-৩৫ ওভার করে বল করা মোটেও সহজ নয়। ওরা শারীরিকভাবে কতটা প্রস্তুত আছে, সেগুলো বুঝেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।’

দুই দল এখন পর্যন্ত ২১টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ১৬ ম্যাচেই জিতেছে লঙ্কানরা। আর ২০১৭ সালের নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচটি জিতেছিল বাংলাদেশ। লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের জয় এই একটিই। অন্য তিনটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিদেশের মাটিতে ওটাই বাংলাদেশের সর্বশেষ ড্র করা সিরিজ। তারপর দেশের বাইরে আরও পাঁচটি সিরিজ খেলেছে, সবক’টি হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। এবার আরেকটি ড্র সিরিজের সুযোগ রয়েছে, রয়েছে সিরিজ জয়ের সুযোগও। ২০০৯ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর আর কোনও সিরিজ বিদেশের মাটিতে জেতা হয়নি।

বাংলাদেশ দল অবশ্য জয় ছাড়া কিছু ভাবছে না। জিততে গেলে ব্যাটসম্যান-বোলারদের সমান আধিপত্য দেখাতে হবে। তামিম-শান্ত-মুশফিক-মুমিনুলদের দিকে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশের সমর্থকরা। আর বোলিংয়ে দায়িত্ব নিতে হবে তাসকিন-তাইজুল-মিরাজদের। ম্যাচের লক্ষ্য নিয়ে ডমিঙ্গো বলেছেন, ‘আমরা সিরিজ জেতার চেষ্টা করবো। শ্রীলঙ্কায় সিরিজ জেতা বাংলাদেশের জন্য দারুণ অর্জন হবে। দেশের বাইরে সিরিজ জেতাকে লক্ষ্য বানিয়েছি। সেজন্য পাঁচ দিন ধরে ভালো খেলতে হবে।’