খুলনায় মানব বইয়ের গল্প!

161

স্টাফ রিপোর্ট : মানুষের জীবনের কথাই তো বলে বই। আর সেই বই যদি হয়ে হয়ে ওঠে জীবন্ত, তবে কতই না মজার ব্যাপার ঘটে। এমনি এক ভাবনায় খুলনায় প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে হিউম্যান লাইব্রেরি।
শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হিউম্যান লাইব্রেরির সদস্যরা উপস্থিত হয়েছিল খুলনার কফিতা’য়। বিশ্বের ৯০টি দেশের মানুষদের নিয়ে হিউম্যান লাইব্রেরিতে গল্প করেন সদস্যরা। সমাজের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সফল ৪ জন ব্যক্তি এ জীবন্ত বইয়ে তাদের গল্প তুলে ধরেন। ফাইরুজ ফাইজা বিথার, আকিব মুজিব, পাখি দত্ত, আর এস সৌমিক নামের সফল ব্যক্তিরা জীবন্ত এ মানব বইয়ের গল্প শোনান। খুলনা শহরে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হওয়া এই ব্যতিক্রমী লাইব্রেরি সবার জন্যে উন্মুক্ত ছিলো।
আয়োজকরা জানান, হিউম্যান লাইব্রেরীতে কথা বলায় কোন বারণ নেই। নেই চুপ থাকার মত কোন কঠোর নিষেধাজ্ঞা। প্রতিটি মানুষই এখানে এক একটা বই। ওরা গল্প বলে, নিজেদের গল্প। পাঠককে নিজেদের সুখ-দুঃখের অনুভূতির ভাগীদার করে। পাঠক বিমর্ষ হয়, কখনো আনন্দ তাদের ছুঁয়ে যায়, আবার কখনো নিজের ব্যাপারে উৎসাহী হয় নিজের হতাশা ভুলে। হিউম্যান লাইব্রেরির একটি অন্যতম শ্লোগান হল “বইকে এর মলাট দিয়ে বিচার করো না”। পুরো হিউম্যান লাইব্রেরির ভিক্তিই দাঁড়িয়ে আছে এই নন-জাজমেন্টাল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবার চিন্তা নিয়ে। মানুষ তার আশেপাশের বৈচিত্র্যময় জীবন সম্পর্কে জানে না বলেই তার নিজস্ব গন্ডির মাঝে কিছু বদ্ধমূল ধারনা দিয়ে আশেপাশের মানুষদের বিচার করে চেষ্টা করে। যা তার দৃষ্টিভঙ্গিকে অত্যন্ত নিন্মস্তরে নিয়ে যায়। হিউম্যান লাইব্রেরি মূলত মানব দৃষ্টিভঙ্গি উন্নয়ন, পরিবর্তন এবং অন্যকে সঠিকভাবে বিচার করতে শেখায়।

হিউম্যান লাইব্রেরির অন্যতম আয়োজক শাদমান ইকতেদার বলেন, খুলনায় প্রথমবারের মতো মানব বইয়ের গল্পের ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজন শুরু করা হয়েছে। প্রথম দিনে জীবন্ত বইয়ের মতো জীবনের গল্প বলেছেন হিউম্যান লাইব্রেরির সদস্যরা। অদ্ভুত তাঁদের গল্প। নিজের ব্যক্তিগত জীবনে শত বাধা পার হয়ে সফল হবার ঘটনা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন একজন “মানব-বই”। দারিদ্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জয়ী হবার গল্প শুনিয়েছিলেন একজন। অন্য ‘বই’ শুনিয়েছেন তার শারিরীক প্রতিবন্ধকতা জয়ের গল্প। আরেকজন ‘বই’ তার লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে সমাজের দ্বিধা পার হওয়ার যাত্রার গল্প বলেছিলেন। গল্পের মায়াজালে আটকে মুগ্ধ পাঠকগণ শ্রোতা হিসেবে শুনে গিয়েছিলেন তাদের গল্প। পাঠক আর মানুষরূপী বইদের এ আসর যখন শেষ হয়, তখন রাত গভীরে নেমে আসে। গল্পে বুঁদ হয়ে থাকা পাঠক ঘোরের মাঝে ঘরে ফিরেছে। নিয়ে গিয়েছে একরাশ অভিজ্ঞতা, যা হয়তো তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করবে, সুস্থ এ পৃথিবীতে সুস্থ চিন্তা করতে শেখাবে।
“হিউম্যান লাইব্রেরি বাংলাদেশ” এর তত্ত্বাবধানে এ আয়োজনটিতে আরো ছিলেন, মুমতাহিনা, সুপ্তি, সুহা, জান্নাত, আকাশ এবং সায়েদ। জীবন্ত বইয়ের গল্পে মেতে থেকে পাঠকরা কাটিয়েছে একটি সুন্দর সন্ধ্যা রাত।