‘জাড়ের সাথে খিদে, কামে নিচ্ছে না কেউ’

3
খিদে

মাগুরা প্রতিনিধি : ‘চার দিন ধরে সকালে আসি, দুফোর পনতু থায়ে খালি হাতে আবার বাড়ি চলে যাই। জাড়ের সাথে পেটের খিদে, এদিকে কামেও নিচ্ছে না কেউ।’
কথাগুলো বলছিলেন তপন কুমার চক্রবর্তী (৩৯)। মাগুরা সদরের শিবরামপুর থেকে প্রতিদিন আসেন শহরের নতুন বাজারের ব্রিজের ওপর। এখানে তপনের মতো কয়েকশ’ মানুষ শ্রম বিক্রির জন্য প্রতিদিন জড় হন। কোন দিন কাজ পান, আবার কোনদিন খালি হাতেই ফিরতে হয়।
কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত পড়ায় মাগুরার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিছু এলাকায় গত চার দিন ধরে সূর্যের মুখও দেখা যায়নি। কাজ না পেয়ে কষ্টে আছেন শ্রমজীবী দরিদ্র লোকজন। খাবার ও যথেষ্ট গরম কাপড় না থাকায় তাদের দুর্ভোগ চরমে।

আরও পড়ুন : সাতক্ষীরায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় যুক্তিতর্ক চলছে

জেলার চরাঞ্চলসহ তিনটি উপজেলার গ্রামগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানকার বাসিন্দারা আগুন জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। নদ-নদীর অববাহিকায় ঘন কুয়াশাসহ শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
মাগুরা শহরতলীর নিজ নান্দুয়ালি এলাকার জাকির হোসেন জানান, প্রতিদিন তিনি শ্রম বিক্রি করতে নতুন বাজার ব্রিজে আসেন। শীত-কুয়াশার কারণে কাজ নেই। বিক্রি না হওয়ায় তার মতো অনেকেরই বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। উপার্জন না করতে পারায় পুরো পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
ধরলা নদীর তীরবর্তী মহম্মদপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে অধিকাংশ মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নের রুইজানি এলাকার আশরাফ আলী জানান, এত শীত যে বাড়ির বাইরে যাওয়া যায় না। দিনমজুর সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জমিতে বোরো ধান লাগাচ্ছি। শীতের কারণে কাজ করতে খুব সমস্যা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন : বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে কুকুর উপহার দিল ভারত

শালিখা উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনটি উপজেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বেশ কিছু পরিবার গরম কাপড়ের অভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে। তাদের মধ্যে সরকারিভাবে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা যথেষ্ট নয়। মহম্মদপুর সদরের মধুমতি নদীভাঙন কবলিত পরিবারগুলো খুবই কষ্টে আছেন। কাশিপুর গ্রামের রহিমা বিবি বলেন, ‘এমনিতেই অভাবের জ্বালা। তার ওপর শীতের জ্বালায় মরে যাচ্ছি। আমগেরে দেহার মতো কী কেউ নাই?’ বাবুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর মো. সাজ্জাদ আলী জানান, চরের মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে কাজেও যেতে পারছেন না। এখানে জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্র পাঠানো প্রয়োজন।’
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পাল বলেন, ‘এবার ৫০০ এর বেশি কম্বল বিতরণ করা হয়ছে। বিতরণ অব্যহত আছে। আরও কিছু কম্বল বরাদ্দ পাওয়ার আশা করছি।’ এদিকে শীতের কারণে জেলায় ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। গত এক সপ্তাহে মাগুরা সদর হাসপাতালে ১৫ শিশুসহ ১০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে।
সোমবার (১৮ জানুয়ারি) নতুন করে ৬ জন ডায়রিয়া ও ২০ জন নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক রোগীকে মেঝেতে স্থান নিতে হচ্ছে। মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগরে চিকিৎসক ডা. অমর প্রসাদ জানান, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।