টিকা নিয়ে মানুষের উৎকণ্ঠা কমছে না: জিএম কাদের

2

ঢাকা অফিস
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, করোনার টিকা আবিষ্কার হলেও এই টিকা নিয়ে দেশের মানুষের উৎকণ্ঠা কমছে না। দেশের মানুষ জানে না, কবে এবং কীভাবে তারা টিকা পাবেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে তিন থেকে পাঁচ কোটি টিকার জন্য সরকার চুক্তি করেছে। তাতে দেড় থেকে আড়াই কোটি মানুষ হয়তো টিকা পাবেন। কিন্তু বাকি ১৫/১৬ কোটি মানুষ কীভাবে টিকা পাবেন, তা কেউই জানেন না।’

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বিজয় নগরে হোটেল চুংওয়াহ’র মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত মহাসচিব ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা’র সভাপতিত্বে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘আবার নতুন ধরনের করোনা আবিষ্কার হয়েছে। এর বিস্তার বেড়ে গেলে দেশের মানুষের অবস্থা ভয়াবহ হবে। জেলা ও বিভাগীয় শহরে করোনার কোনও চিকিৎসা নেই। রাজধানীর সরকারি ২/১টি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা আছে। আর বেসরকারি পর্যায়ে বেশকিছু হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা রয়েছে। কিন্তু তা এতই ব্যয়বহুল যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে টিকা সরবরাহ, পরিবহন ও বিতরণে কী ব্যবস্থা সরকার নিয়েছে, তা কেউ জানে না। কারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পাবেন তারও কোনও নীতিমালা আছে বলে আমাদের জানান নেই। ভেজাল খাবার, দূষিত পানি ও বায়ুর সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেঁচে দেশের মানুষের শরীরে সহনশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই করোনায় দেশে মৃত্যুর হার অনেক কম।’ জিএম কাদের বলেন, ‘এমন অবস্থায় দেশের মানুষ কিছুটা চিকিৎসা পেলেও করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা খুবই সামান্য হতো। করেনায় দেশে মৃত্যু হার অনেক কম হলেও তাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনও কৃতিত্ব নেই। এখনও হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নেই। সরকারি কিছু হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা উন্নত করতে কাজ শুরু হয়েছে, তা কবে শেষ হবে কেউই জানে না।’

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তৃতা করেন— জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব এটিইউ তাজ রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া প্রমুখ।