পরিচালককে কৃষক বানিয়েছে করোনা

0

বিনোদন ডেস্ক
করোনার কালো ছায়া পড়েছে বিভিন্ন পেশায়। অনেকেই কাজ হারিয়ে বেকার হয়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে পেশা বদল করেছেন। অনেকে সাময়িকভাবে ভিন্ন কাজ বেছে নিয়েছেন। তরুণ নির্মাতা শামীমুল ইসলাম শামীম শেষের দলে। তিনি ক্যামেরা আপাতত ক্লোজ করে হাতে তুলে নিয়েছেন লাঙল।

শামীম ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’ সিনেমা নির্মাণ করে আলোচনায় আসেন। এছাড়া দেশসেরা শিল্পীদের নিয়ে তিনি অসংখ্য নাটক-টেলিফিল্ম ও ধারাবাহিক নির্মাণ করেছেন। চলচ্চিত্র অঙ্গনে তিনি পরিচিত মুখ। কিন্তু করোনার কারণে চলচ্চিত্রে মন্দা হাওয়া বইতে শুরু করলে তিনি কৃষিকাজ শুরু করেন। এজন্য তিনি আপাতত গ্রামেই থাকছেন।

অভাবের তাড়নায় নয়, শখ পূরণ করতেই নিজের জমিতে কৃষিকাজ করছেন শামীম। পাশাপাশি জানিয়েছেন, সিনেমার ভালো কাজ পেলে ফিরে আসবেন পুরনো পেশায়।

এ প্রসঙ্গে শামীম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমার পেশা নাটক, সিনেমা নির্মাণ হলেও কৃষিকাজ, গবাদি পশু পালন ও ফলের বাগান করা আমার শখ। গ্রামে ৭ বিঘা জমির উপর আমি বিভিন্ন কৃষিজাত ফসলের পাশাপাশি ফলের বাগান করেছি। দেশের এমন কোনো ফল নেই যা আমার বাগানে নেই।’

ভবিষ্যতে গরু ও হাঁসের খামার করবেন জানিয়ে শামীম আরো বলেন, ‘এবার ২৫ শতাংশ জমিতে উন্নত জাতের পেঁপের চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেছি। এখনো গাছে প্রচুর পেঁপে আছে। আশা করছি এবার আরো ১ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের রেডলেডী পেঁপের চাষ করবো। এছাড়া আমার আপেল কুল এবং লেবু বাগান রয়েছে। আশাকরি, আগামি বছর ভালো ফলন হবে যা থেকে ভালো উপার্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।’

শামীম জানান, নাটক, সিনেমার এই দুর্দিনে কৃষিকাজ তাকে সাবলম্বী থাকতে সাহায্য করছে। এবং কাজটি তিনি উপভোগ করেন। ভবিষ্যতে বড় ধরনের কৃষি প্রজেক্ট গড়ে তুলবেন বলেও জানান তিনি।

চিত্রনাট্যকার হিসেবেও শামীমুল ইসলাম শামীমের পরিচিতি রয়েছে। ‘গোলাপতলীর কাজল’, ‘চাঁদনী’ নামে দুটি সিনেমার কাজ হাতে নিলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো আর আলোর মুখ দেখেনি। সর্বশেষ তিনি একটি ওয়েব সিরিজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ‘লাল বল’ নামে একটি সিনেমা প্রযোজনাও করছেন। আগামী মাস থেকে এর দৃশ্যধারণ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন এই নির্মাতা।