Monday, July 15, 2024
Monday, July 15, 2024
Homeফিচারমতিউর ও তাঁর পরিবারের খোঁজ দেশে পাওয়া যাচ্ছে না, বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা..

মতিউর ও তাঁর পরিবারের খোঁজ দেশে পাওয়া যাচ্ছে না, বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা..

  • মতিউর রহমানের অবস্থান কোথায়, জানা যাচ্ছে না। সরকারের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা করেছেন তিনি।
  • প্রকাশ্যে আসছেন না মতিউরের প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ। যাচ্ছেন না উপজেলা পরিষদেও।
  • ছেলে তৌফিকুর রহমানের নামে বিভিন্ন কোম্পানির মালিকানা রয়েছে। শেয়ারবাজারেও বিনিয়োগ আছে।

মো. মতিউর, তাঁর প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ ও ছেলে তৌফিকুর রহমানকে বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদ্য সাবেক সদস্য মো. মতিউর রহমানের অবস্থান এখন কোথায়, সে বিষয়ে তাঁর স্বজন ও সহকর্মীরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোও। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছেও তাঁর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে দুদক জানতে পেরেছে, মতিউর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশ ত্যাগ করার চেষ্টা করছেন।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য সাবেক সদস্য মো. মতিউরের দেশত্যাগে গতকাল সোমবার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের দেওয়া এ নিষেধাজ্ঞার আওতার মধ্যে আরও রয়েছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ ও তাঁদের ছেলে আহাম্মেদ তৌফিকুর রহমান (অর্ণব)। লায়লা কানিজ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। কোরবানির ঈদের পর থেকে তাঁকেও আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। উপজেলা পরিষদেও যাচ্ছেন না তিনি।

মো. মতিউর, তাঁর প্রথম স্ত্রী ও ছেলের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা। সোনালী ব্যাংকের পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ।

এনবিআরের সদস্যপদের পর মো. মতিউরকে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি গত রোববারই জানা গিয়েছিল। এ–সংক্রান্ত আদেশ গতকাল জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এ আদেশের মাধ্যমে মো. মতিউরকে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকের পদ থেকে অপসারণ করা হলো।

এনবিআরের সাবেক এই সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশ–বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ হুন্ডি ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। এ বিষয়ে দুদকের সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, মতিউর রহমান অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন—এমন অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। তাঁরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। এনবিআরের সাবেক এই প্রভাবশালী সদস্যের সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে দুদকের ওপর কোনো দিক থেকে চাপ নেই বলেও জানান তিনি।

মো. মতিউরের দ্বিতীয় সংসারের ছেলে মুশফিকুর রহমান (ইফাত) ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য ১৫ লাখ টাকায় ‘উচ্চবংশীয়’ ছাগল কিনতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে আলোচনায় আসেন। তাঁর বিলাসী জীবনযাপনের নানা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেতে থাকে।

ঈদের ছুটির পর গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরকারি অফিস খোলা থাকলেও মো. মতিউর এনবিআরে তাঁর কার্যালয়ে যাননি।

একজন সরকারি চাকরিজীবীর কলেজপড়ুয়া ছেলে কীভাবে এত বিলাসী জীবন যাপন করতে পারেন, সে প্রশ্ন ওঠে। একপর্যায়ে মো. মতিউর ও তাঁর পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে। আলোচিত এই কর্মকর্তা ও তাঁর স্বজনদের নামে এখন পর্যন্ত ৬৫ বিঘা (২ হাজার ১৪৫ শতাংশ) জমি, ৮টি ফ্ল্যাট, ২টি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং ২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তাঁর প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, যশোর ও নাটোরে মোট ৮৪৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ (২৫ দশমিক ৭০ বিঘা) জমি রয়েছে। ঢাকাতেই তাঁর নামে ফ্ল্যাট রয়েছে অন্তত চারটি।

২০২৩-২৪ করবর্ষের আয়কর বিবরণীতে লায়লা কানিজ তাঁর মোট সম্পদ দেখিয়েছেন ১০ কোটি ৩০ লাখ ৫১ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারেও তৎপর মতিউর, ৫ বিও হিসাবে ৩৬ কোটি টাকা মুনাফা

শেয়ারবাজারে মো. মতিউর পরিচিত ছিলেন বাজে কোম্পানির ‘প্লেসমেন্ট-শিকারি’ হিসেবে। স্ত্রী, ছেলে–মেয়েসহ নিজের নামে খোলা পাঁচটি বিও হিসাব থেকে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা মুনাফা তুলে নিয়েছেন তিনি। এর বাইরে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের নামে ১৫টির বেশি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments