Monday, July 15, 2024
Monday, July 15, 2024
Homeফিচারফয়সালের স্ত্রী–মাসহ ১৪ স্বজনের ব্যাংক হিসাবে ৫০ কোটি টাকা..

ফয়সালের স্ত্রী–মাসহ ১৪ স্বজনের ব্যাংক হিসাবে ৫০ কোটি টাকা..

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদ্য সাবেক প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালসহ তাঁর ১৪ জন স্বজনের নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে আট বছরে জমা হয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা। স্বজনদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর মা, ভাই, বোন ও ভগ্নিপতি। আরও আছেন ফয়সালের স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও শ্যালক।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ওই টাকা জমা (সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগসহ) হয়েছিল। এর বাইরে ফয়সাল, তাঁর মা, বোন, স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ভগ্নিপতি আবদুল্লাহর নামে ২১ কোটি টাকা মূল্যের (দলিল মূল্য) ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি কেনা হয়। যদিও তাঁদের কেউ বড় কোনো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। এমনকি সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ কোনো পদেও তাঁরা চাকরি করেন না।

সরকারের উচিত সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নেওয়া। যাঁদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ থাকবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি

ফয়সালের মা, বোন, স্ত্রী, শাশুড়ি, খালাশাশুড়ি গৃহিণী। স্বজনদের মধ্যে শুধু ফয়সালের ভগ্নিপতি সৈয়দ আবদুল্লাহ পুলিশের পরিদর্শক। তিনি এখন ফেনী জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত। এর আগে তিনি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। আর ফয়সালের ভাই পেশায় আইনজীবী।

দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের বিপুল সম্পদ থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসে মূলত তাঁর ভগ্নিপতি আবদুল্লাহর সম্পদের খোঁজ করতে গিয়ে। আবদুল্লাহ যখন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন, তখন তাঁর অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর দুদকের পিরোজপুরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের তিনজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে অনুসন্ধান কমিটি (গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে) গঠন করা হয়।

সৈয়দ আবদুল্লাহ ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত মঠবাড়িয়া থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন।

দুদকের ওই কর্মকর্তা বলেন, সেই কমিটির অনুসন্ধানে আবদুল্লাহর বিপুল সম্পদ থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর গত বছরের মে মাসে আবদুল্লাহর স্ত্রী ফারহানা আক্তারের (ফয়সালের বোন) নামে ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট ও একটি কমার্শিয়াল স্পেস (বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য), শাশুড়ি কারিমা খাতুনের (ফয়সালের মা) নামে গুলশানে একটি ফ্ল্যাট থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয় দুদক। এর বাইরে ফয়সালের বোনের ব্যাংক হিসাবে কয়েক কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ফয়সালের বোন, মা, ভগ্নিপতির নামে থাকা সম্পদ ক্রোক (জব্দ) করতে আদালতে আবেদন করে দুদক। এর ভিত্তিতে আদালত গত বছরের ২৮ মে তাঁদের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করার আদেশ দেন। এই সম্পত্তির মূল্য ১৮ কোটি টাকা।

মা, বোন ও ভগ্নিপতি—এই তিনজনের সম্পত্তি জব্দ হওয়ার ১১ মাস পর ফয়সালসহ আরও ১১ জনের সম্পত্তির তালিকা আদালতের কাছে তুলে ধরে দুদক। এর ভিত্তিতে গত ২৭ জুন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আস্‌সামছ জগলুল হোসেন ফয়সালের সম্পত্তি জব্দের আদেশ দেন। আদালত যখন এই আদেশ দেন, তখন ফয়সাল ছিলেন এনবিআরের ঢাকা কার্যালয়ের প্রথম সচিব (কর)। পরে তাঁকে এনবিআর থেকে ‘অবমুক্ত’ করে বগুড়া কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ বদলি করা হয়।

গত বছরের মে মাসে আবদুল্লাহর স্ত্রী ফারহানা আক্তারের (ফয়সালের বোন) নামে ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট ও একটি কমার্শিয়াল স্পেস (বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য), শাশুড়ি কারিমা খাতুনের (ফয়সালের মা) নামে গুলশানে একটি ফ্ল্যাট থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয় দুদক। এর বাইরে ফয়সালের বোনের ব্যাংক হিসাবে কয়েক কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।

বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের বক্তব্য জানতে গত সাত দিনে কয়েক দফায় মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে প্রথম আলো। কিন্তু রিং হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে ফয়সালের বিষয়ে আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে দুদক বলেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। আরও বলেছে, আয়কর কর্মকর্তাদের অর্থের বিনিময়ে বদলি এবং আয়করদাতাদের ভয় দেখিয়ে অর্থ নেওয়াসহ দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

ফয়সালের ভগ্নিপতি সৈয়দ আবদুল্লাহর বিষয়েও আদালতে দেওয়া পৃথক প্রতিবেদনে একই ধরনের কথা বলেছে দুদক। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদক ও চোরাকারবারিদের সঙ্গে সখ্যসহ দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন।

আরও পড়ুন

এনবিআর কর্মকর্তা ফয়সালের খুলনার বাড়িতে গিয়ে যা জানা গেল

২৯ জুন ২০২৪

এনবিআর কর্মকর্তা ফয়সালের খুলনার বাড়িতে গিয়ে যা জানা গেল

বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ আবদুল্লাহর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে প্রথম আলো। এর মধ্যে একবার তিনি ফোন ধরে এই প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর ‘এখন কথা বলতে পারবেন না’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments